জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে সরকারবিরোধী আন্দোলন না করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, “চট্টগ্রামের গণমানুষ, শ্রমিক, নারী ও শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলেন এবং সাংবাদিকরা সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এখন প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্র পুনর্গঠন, যা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব।”
জ্বালানি সংকট ও লং মার্চ প্রসঙ্গে:
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট একটি আন্তর্জাতিক সংকট। এই সংকটকে পুঁজি করে চট্টগ্রামমুখী লং মার্চের আয়োজন করা হলেও তাতে সাধারণ মানুষের কোনো সাড়া দেখা যায়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকার ইতোমধ্যে লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট অনেকটা কমিয়ে এনেছে। পাশাপাশি আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে সৌর, বায়ুর মতো বিকল্প শক্তি ও পানির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ সংকট কেটে যাবে।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে মন্তব্য:
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, দলটির এখন আরও সময় নিয়ে নিজেদের পুনর্গঠন করা উচিত। জনগণ এখন সরকারবিরোধী রাজপথের আন্দোলন দেখতে চায় না।
তিনি মন্তব্য করেন, “ইসলামের নামে মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো দাবি কেউ করতে পারে না। কখনো শরিয়াহ আইন আবার কখনো কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা:
রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো রাজনৈতিক ভুল আচরণ বা পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।
অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে যে তিক্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেখান থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী নয়, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
উক্ত ব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়সাল হাবিবী উপস্থিত ছিলেন।

