পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নগরীর আগ্রাবাদস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এস. এম. সাইফুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী।
সভাপতির বক্তব্যে এস. এম. সাইফুল আলম বলেন, চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান ও মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে এই সভা আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, রমজান এলেই কেন পরিবহন ভাড়া ও পণ্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়—এর কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে। সকল স্টেকহোল্ডার সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দ্রুত পণ্য খালাস, পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী বলেন, দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি ব্যবসাবান্ধব বন্দর গড়ে তুলতে সকল অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন-এর প্রতিনিধি সাহেদ ছরওয়ার বলেন, সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে সকল সেক্টরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন প্রয়োজন।
তিনি বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ স্থগিত করতে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি রমজানে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার কারণে বন্দরের উৎপাদনশীলতা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শ্রমিক ও ইক্যুপমেন্ট অপারেটরদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিকডা-এর মহাসচিব মোঃ রুহুল আমিন সিকদার বলেন, অফডকগুলোতে সক্ষমতার তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং কম হচ্ছে। বন্দরে স্ক্যানিং বিলম্বের কারণে কন্টেইনার অফডকে পৌঁছাতে দেরি হয়। স্ক্যানিংয়ের পরিবর্তে অফডকে খালাসকালে পরীক্ষা করলে ডেলিভারি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
অফডক প্রতিষ্ঠান পোর্ট লিংক লজিস্টিকস লি.-এর সিইও দৌস মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন অজুহাতে মাঝে মধ্যে ট্রেইলার থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায়।
ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্টস এসোসিয়েশন-এর প্রতিনিধি পারভেজ আহমেদ জানান, নতুন জাহাজ নির্মাণ না হওয়ায় লাইটারেজ জাহাজের সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।
কাভার্ড ভ্যান ওনার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্দরের কর্মবিরতি ও জাতীয় নির্বাচনের ছুটির কারণে পণ্য খালাসে চাপ বেড়েছে। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দায় নতুন গাড়ি সংযোজন না হওয়ায় পরিবহন ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
শিপ হ্যান্ডলিং এন্ড বার্থ অপারেটরস এসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক মসিউর আলম স্বপন বলেন, লাইটারেজ জাহাজ সংকটের পেছনে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির জন্য মালিকরা নয়, বরং মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমোদিত কাঠামোর তুলনায় কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা, পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় প্রাইম মুভার ও ফ্ল্যাটবেড ওনার্স এসোসিয়েশন, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, উইন্সম্যান সমবায় সমিতি, বার্থ অপারেটর ইউনিয়ন, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বন্দর ল্যাসিং-আনল্যাসিং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

