রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সোমবার বাজার খোলার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রণালিটির এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে বিবেচিত।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ নির্ভরশীল। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এ পথে চলাচল করে।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল—ইরানে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ভিএইচএফ চ্যানেলে বার্তা দিয়ে জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

এরপর অধিকাংশ ট্যাংকার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস প্রণালি হয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও এলএনজি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

পারমারের মতে, বাজার খুললে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা দিলে দাম আরও বাড়বে।

আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে। একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বার্কলেজের বিশ্লেষকরাও।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী জোট OPEC+ এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার মাত্র ০.২ শতাংশেরও কম, যা বর্তমান সংকটে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাইস্টাড এনার্জির জ্বালানি অর্থনীতিবিদ হোর্হে লিওন বলেন, বিকল্প রুট ব্যবহার করা গেলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হবে।

রাইস্টাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন সপ্তাহে লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম আরও ২০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও