বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ঈদ এলেই বাড়ে দাম—নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজার

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়, আর সেই সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যের দাম।

- Advertisement -

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি ও মসলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চাপ বাড়ছে।

সুগন্ধি চালের বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চাল প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০-৩০ টাকা বেশি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, সুগন্ধি চালের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

ঈদ ঘিরে সেমাইয়ের চাহিদাও বেড়েছে। বাজারে ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই ১৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিদেশি চিনি কেজিপ্রতি ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরু থেকে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মসলার বাজারে দাম আরও চড়া। এলাচ প্রতি কেজি ৫ হাজার টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং দারুচিনি ৫৬০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবঙ্গ, জিরা, ধনিয়া ও তেজপাতার দামও বেড়েছে।

শুকনো ফলের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। কিশমিশ, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে স্বস্তি মিলেছে সবজির বাজারে। পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা এবং শসা ৩৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৫০-৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদের আগে বাড়তি চাহিদার সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। ফলে বাজারে কার্যকর তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও