বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

‘কিচেন কেবিনেটের’ সিদ্ধান্তেই চলত অন্তর্বর্তী সরকার: তৌহিদ হোসেন

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মূলত এই প্রভাবশালী চক্রই নিত এবং তাদের হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

- Advertisement -

এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন জানান, প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় ওই ‘কিচেন কেবিনেটের’ বৈঠক হতো। সদস্যদের অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো।

তিনি বলেন, “আমি যমুনায় তাদের একটি বৈঠকে একবার গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত কেউ কেউ নেয়— এমন কথাবার্তা আমার কানেও আসত।”

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে বাইরের হস্তক্ষেপ এবং কিছু সিদ্ধান্তে অস্বচ্ছতার কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের চিন্তা করেছিলেন। তবে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ভেবে শেষ পর্যন্ত তা করেননি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় সব বড় ঘটনার সঙ্গেই এমন শক্তি কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে। তবে তারা সরাসরি স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তৌহিদ হোসেন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। বিষয়টি দেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।”

তিনি মনে করেন, বাধ্যবাধকতা না থাকলে ওই চুক্তি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া উচিত ছিল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ কার্যকর হবে না— তা আগে থেকেই জানা ছিল। তবুও কূটনৈতিক প্রথা অনুসারে তা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, দলটি পুরোপুরি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন না। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়। তাই আমার ধারণা, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনেও অংশ নেবে।”

নতুন সরকার ও বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও