চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে দুই কিশোরের বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. আবুল হোসেন জাফর (৫৫) নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিবি জাহেদা নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা গ্রামের তাজুল ইসলাম সওদাগর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হোসেন জাফর ওই গ্রামের মৃত বদিউল আলমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতের বড় ছেলে মুনছুর আলমের সঙ্গে প্রতিবেশী কিশোর মো. রায়হানের মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যরাও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে আবুল হোসেন জাফর রায়হানকে সালিশি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতের কাছে থাকা একটি ইট ছুড়ে মারে। ইটের আঘাতে আবুল হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিরিনা আক্তার বলেন, ‘দুই কিশোরের ঝগড়ার জেরে বড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রায়হান ইট ছুড়ে মারলে আবুল হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রায়হানের মা বিবি জাহেদা বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তাদের ছেলের ঝগড়া হয়েছিল। আবুল হোসেন আমাদের গালাগাল করছিলেন। পরে তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমার ছেলে তাকে ইট মারেনি।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বাঁধন দাশ বলেন, ‘মো. আবুল হোসেন জাফরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিউরোলজিক্যাল স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।’
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিবি জাহেদা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

