ফুটবলের নাটকীয়তার আরেক অনন্য উদাহরণ দেখা গেল কাতার ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া করেছে সুইজারল্যান্ড। ইনজুরি সময়ের গোলে সমতায় ফিরে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে কাতার।
গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সুইজারল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এডমিলসন জুনিয়র। এরপর একের পর এক আক্রমণে কাতারের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ইউরোপের দলটি।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন ফ্রেয়ুলার। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে দলকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো।
গোল হজমের পরও ম্যাচে টিকে থাকে কাতার, মূলত গোলরক্ষক আবু নাদার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। প্রথমার্ধেই তিনি একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন। অন্যদিকে এমবোলো, নডোয়ে, ভারগাস ও অ্যাবিশার সহজ সুযোগ নষ্ট করায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সুইসরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখে সুইজারল্যান্ড। তবে ফিনিশিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি তারা। ম্যাচের ৭৬ ও ৮১ মিনিটে আরও দুটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করে দলটি।
যখন মনে হচ্ছিল ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে সুইজারল্যান্ড, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ৯০+৪ মিনিটে বাম দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে কাতারকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক আলমোয়েজ আলি কুখি।
শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্টের স্বাদ পেল কাতার। আর পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ মুহূর্তে জয় হারানোর আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে।

