তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি সংসদে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জানতে চান, তিস্তা নদীবেষ্টিত ও দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত পীরগাছা ও কাউনিয়া অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুসহ বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সমন্বিত মহাপরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে তিস্তা নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে উজানে বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায়, ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজানে অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, তিস্তা তীরবর্তী পাঁচ জেলা—রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ চলমান রয়েছে, যা চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এর মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। কাজ শেষ হলে ওই এলাকায় নদীভাঙন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন (স্পার) নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে সংসদে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, বিভাগীয় শহরগুলোতে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং হজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

