ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও নির্ভরতার প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে আজ (রোববার, ২১ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হওয়া এই বিশেষ দিনটি সন্তানের জীবনে বাবার অবদানকে স্মরণ ও সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
যদিও বাবা দিবসের সূচনা পশ্চিমা বিশ্বে, সময়ের সঙ্গে এটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাবাকে ঘিরে আবেগঘন শুভেচ্ছা ও স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে উঠেছে মানুষ।
ইতিহাস বলছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মায়েদের মতো বাবারাও সন্তানের জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতেই দিনটির প্রচলন।
বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সনোরা স্মার্ট ডড। মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন। বাবার সেই ত্যাগ ও সংগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাবাদের জন্য একটি বিশেষ দিবস চালুর উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপিত হয়। পরে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বাবারা অনেক সময় আবেগ প্রকাশ করেন না, কিন্তু তাদের প্রতিটি ত্যাগ, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতেও তারা দ্বিধা করেন না। সংসারের নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা এবং পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যান একজন বাবা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা দিবস শুধু উপহার দেওয়ার দিন নয়; এটি বাবার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একটি ফোনকল, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো, বাবার পছন্দের খাবার পরিবেশন কিংবা আন্তরিকভাবে ‘ভালোবাসি বাবা’ বলা—এসবই হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
জীবনের প্রতিটি বাঁকে একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম নায়ক, প্রথম শিক্ষক, প্রথম ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়। তাই বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

