২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অবশেষে জয়ের দেখা পেল ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হন ম্যাথিউস কুনহা, আর অপর গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে হাইতির রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় কিছুটা ধৈর্য ধরেই খেলতে হয় ব্রাজিলকে। প্রথম ২০ মিনিটে ক্যারিবীয় দলটি সেলেসাওদের আক্রমণ ভালোভাবেই সামাল দেয়।
১২তম মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে ২৩তম মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক আলেক্সান্দ্রে প্লাসিদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে ডিফেন্ডারের ক্লিয়ারেন্স কুনহার গায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।
৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। ভিনিসিয়ুসের নিখুঁত পাস থেকে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস পাকেতার চমৎকার লং পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে সহজ ফিনিশে দলের তৃতীয় গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে দেয়নি। ৬৩তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন অ্যালিসন।
অন্যদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিলও। ৬৯তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট ক্রসবারে লাগে। পরে অবশ্য অফসাইডের সংকেত দেন সহকারী রেফারি। ৭৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এন্দ্রিক বল জালে পাঠালেও সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
শেষ দিকে আনচেলত্তি কুনহা, ভিনিসিয়ুস ও লুকাস পাকেতাকে তুলে নিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে এডারসন ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।
এই জয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলেছে সেলেসাওরা।
অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে হাইতি।
এদিকে এই ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলকও স্পর্শ করেছে ব্রাজিল। তিন বা তার বেশি গোল করা বিশ্বকাপ ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা দলের তালিকায় জার্মানিকেও ছাড়িয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

