বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বইয়ের গন্ধে মুখর চট্টগ্রাম, শুরু স্বাধীনতার বইমেলা

চট্টগ্রামে মহান স্বাধীনতার মাসকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী স্বাধীনতার বইমেলা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

- Advertisement -

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি নৈতিক, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, মূল্যবোধ তৈরি করে এবং প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

মেয়র মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি নগরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে চসিকের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

নগর পরিচালনা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। তবে চসিকের আওতাধীন এলাকাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনো কষ্টে জীবনযাপন করছেন—তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বর্তমান সরকারের সামাজিক উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, বরং বই মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে।” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাইব্রেরি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লাইব্রেরি চালু রয়েছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই মিলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও জ্ঞানভিত্তিক নগরীতে পরিণত করতে হবে।

প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে আয়োজিত এ মেলায় ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল ও ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল রয়েছে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে।

মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মেলায় থাকছে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, বৈশাখী আয়োজন, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও ছড়া উৎসব, আলোচনা সভা এবং লোকজ সংস্কৃতি বিষয়ক নানা আয়োজন। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় অংশ নেবেন লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা।

অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপির উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বইমেলা মঞ্চে ‘একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষিত জাতির বিকল্প নেই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও