ধর্ষণ মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে স্বীকার করে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে যেতেন না বা গেলেও মামলা নেওয়া হতো না। এখন থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং অনলাইনেও এফআইআর ও জিডি করা যাচ্ছে। ফলে নিবন্ধিত মামলার সংখ্যা বেড়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রশংসনীয় হলেও সেই উন্নতির প্রতিফলন বাস্তবে আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খুন, ডাকাতি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ অধিকাংশ অপরাধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বেড়েছে মূলত অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ার কারণে। আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপে অনেক ভুক্তভোগী থানায় যেতে পারতেন না। এখন থানায় গেলেই মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে জিডি ও এফআইআর দাখিলের সুযোগও রয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনাগুলো এখন রেকর্ডে আসছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত, গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়ায়ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পল্লবীর শিশু হত্যা মামলার বিচার ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী অপরাধে জড়ালে সংশ্লিষ্ট দলও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা, সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

