টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য এবং শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের দুই শিশু নিহত হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, ভোরে পাহাড়ধসে ঘরটি চাপা পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিনজনকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান। অপর ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে পাহাড়ধসের পর স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

