শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চমেক থেকে অপহৃত ১৫ মাসের শিশু ১৩ ঘণ্টায় উদ্ধার, গ্রেপ্তার দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বারান্দা থেকে অপহৃত ১৫ মাস বয়সী এক শিশুকে মাত্র ১৩ ঘণ্টার অভিযানে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

- Advertisement -

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণের অভিযোগে নাছিমা বেগম (২৫) ও তার স্বামী বোরহান উদ্দীনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার নাছিমার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সুখচর এলাকায়। আর তার স্বামী বোরহানের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের মালিনি মুরা এলাকায়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চমেক হাসপাতালের ৫ নম্বর ভবনের নিউরোসার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে ১৫ মাস বয়সী নাজেহাদকে অপহরণ করা হয়।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ সোহেল রানা তার অপর এক নবজাতক সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। জায়গার সংকট থাকায় শিশুটির মা তাসলিমা জান্নাত নীলা ও দাদি নাজেহাদকে নিয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন।

এ সময় নাছিমা নিজেকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা এবং শিশুটির মায়ের পরিচিত দাবি করে পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে শিশুটি কান্না শুরু করলে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালজুড়ে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে এ ঘটনায় একটি অপহরণ মামলা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত নাছিমা বেগম ও তার স্বামী বোরহান উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালসহ জনসমাগমস্থলে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় বা সন্তানকে তাদের জিম্মায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও