রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি: ১৩ হাজার ৮৬০ ঘর, ৩৭৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৬০টি বসতঘর, ৩৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রায় ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্যোগে ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

- Advertisement -

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, এক সপ্তাহের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত ৭ জুলাই চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতিবৃষ্টিতে নগরী ও বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ ডুবে গিয়ে কয়েকদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পাশাপাশি পাহাড়ধস, দেয়ালচাপা ও পানিতে ডুবে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে ৪ হাজার ৫১৯টি বসতঘর ও প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়ার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে ২ হাজার ৪৮০টি ঘর, ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুই উপজেলায় তিনজন করে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, কর্ণফুলী, রাউজান, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়াতেও ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ১৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাটহাজারী উপজেলায়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ২৪৬টি বসতঘর, ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১২৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার চন্দনাইশের দোহাজারীতে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। যাদের কৃষিজমি, মাছের ঘের বা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনরুদ্ধারেও সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও জানান, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় জুলাই মাসের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে এনজিওগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও