শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বাজার—বন্যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ধাক্কা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যায় নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

- Advertisement -

গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো, অভ্যন্তরীণ নৌপথে পরিবহন এবং সড়কপথে সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বেচাকেনা কমে গেছে এবং বাজারে সরবরাহচাপ বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে শুকনা খাবারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চিড়া, মুড়ি, সেমাই, বিস্কুট, নুডলস ও খেজুরের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিড়ার বস্তাপ্রতি দাম প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মুড়ি ও সেমাইয়ের দামও কেজিপ্রতি ২ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর বাজারে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে সবজির দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে (লাইটার ভেসেল) পণ্য স্থানান্তর কার্যক্রমও প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, যেখানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি লাইটার জাহাজ পণ্য পরিবহন করে, সেখানে গত সপ্তাহে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১০টি জাহাজ পণ্য বোঝাই করতে পেরেছে। বর্তমানে কার্যক্রম শুরু হলেও স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আসাদগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসতে না পারায় ব্যবসা উল্লেখ যোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে পরিবহন সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বৃষ্টি ও বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীও জানিয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় তাদের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং টিকে গ্রুপ জানিয়েছে, পরিবহন সংকট ও সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও সিলেটের কিছু এলাকায় সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও