শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহেশখালীতে অস্ত্র তৈরির আস্তানায় অভিযান, গ্রেপ্তার ‘মিন্টু’

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইমাম হোসেন ওরফে মিন্টু (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

- Advertisement -

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোর থেকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিস্তারিত জানায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কেরুনতলীসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় একটি সশস্ত্র চক্র অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৬টার দিকে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালী স্টেশনের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে ইমাম হোসেনের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ৫টি একনলা বন্দুক, ৯টি পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৩২ রাউন্ড গুলি, ৪টি খালি কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোস্টগার্ডের দাবি, হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহ, জলদস্যুতা, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি মামলা রয়েছে।

কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোষ্ঠীটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্র তৈরির একাধিক ভ্রাম্যমাণ কারখানা সক্রিয় রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে এসব কারখানার কয়েকটি উচ্ছেদ এবং বিপুল অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও