শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ডেঙ্গুতে একটি মৃত্যুও চাই না’—সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে জনগণকে সচেতন করতে মাঠে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জোনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি, সেসব এলাকাকে গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কল্পলোক আবাসিক এলাকার রাস্তার সমস্যা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এই এলাকার রাস্তাঘাটের কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় বর্ষাকালে সেখানে পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

তিনি জানান, কল্পলোক আবাসিক এলাকার প্লট মালিকদের কাছ থেকে রাস্তার জন্য অর্থ নেওয়া হয়েছে। তাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী আবাসিক এলাকার অসম্পূর্ণ রাস্তাগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। রাস্তার কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটি চসিকের কাছে হস্তান্তর করা হলে সিটি করপোরেশন পরবর্তীতে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে পারবে।

মেয়র বলেন, ‘সিডিএর চেয়ারম্যান, সচিব ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—কল্পলোক আবাসিক এলাকার রাস্তার সমস্যা দ্রুত সমাধান করুন। প্রকল্পের কাজ শেষ করে সিটি করপোরেশনের কাছে বুঝিয়ে দিন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, বৃষ্টির পর তিন-চার দিন পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ডাবের খোসা, প্লাস্টিক, পলিথিন, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ারসহ যেসব বস্তুতে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোনভিত্তিক মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত স্প্রে ও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, জ্বরের প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে র‌্যাশসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চসিকের মেমন হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে—পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি ও ফলের জুসসহ তরল জাতীয় খাবার প্রয়োজন। গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

মেয়র বলেন, ‘ডেঙ্গুতে একটি মৃত্যুও আমরা চাই না। যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো মাঠে থেকে জনসচেতনতা তৈরি করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।

যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কল্পলোক আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও