সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন নদীগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের ছাতক স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণার কলমাকান্দা স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বা নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী অঞ্চলের আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এতে নওগাঁ, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী কয়েক দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরী ও ফেনী নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

