চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে যাত্রীবেশে প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে চালককে শ্বাসরোধ ও মারধর করে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকারটিও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে স্থানীয় লোকজনও পুলিশকে সহায়তা করেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নাটোর সদর উপজেলার শেখ মোহাম্মদ আল ইয়াছা (৩০) এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার জোবেদা খানম চৌধুরী (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আল ইয়াছার ভাই এবং জোবেদা তাঁর স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মো. সেলিম (৪৩) চট্ট-মেট্রো-গ-১৩-০৪৪০ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীবেশে তিন ব্যক্তি তাঁর গাড়ি ভাড়া করে মীরসরাইয়ের ইকোনমিক জোন এলাকায় যান।
বিকেলে ইকোনমিক জোন সড়কের সিপির মোড়সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে চালকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে প্রাইভেটকারটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ছিনতাইকারীরা।
খবর পেয়ে মীরসরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। এতে ঘটনাস্থল থেকেই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি থ্রেড কাটার, একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, অ্যানেসথেশিয়া-জাতীয় তরল ভর্তি একটি ভায়াল, নেশাজাতীয় তরল ভর্তি একটি বোতল এবং একটি গামছা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবেশে প্রাইভেটকার ভাড়া করে নির্জন স্থানে নিয়ে চালকদের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ছিনতাই করত। পরে ছিনতাই করা গাড়িগুলো একটি চোরাই গাড়ি সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে আর্থিক সুবিধা নিত।
এ ঘটনায় মীরসরাই থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক আসামি শেখ মো. জাহাঙ্গীরসহ চক্রের অন্য সদস্য এবং চোরাই গাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

