চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই নেজাম উদ্দিন (৪৫) হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ছোট ভাই জামাল উদ্দিন সুমন (৩৬) এখনও পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষখীল গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত নেজাম উদ্দিন ঘোষখীল গ্রামের মৃত আবদুল হামিদের ছেলে। তিনি লালারহাট এলাকায় একটি মুদির দোকান পরিচালনা করতেন।
ঘটনার পর নিহতের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছাম্মৎ ফারিয়া তানহা মাইমা (১৯) বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেবর জামাল উদ্দিন সুমন, শাশুড়ি হালিমা বেগম (৭০) এবং সুমনের স্ত্রী সানজিদা আক্তার পপি (২৬)-কে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার পর হালিমা বেগম ও সানজিদা আক্তার পপিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি সুমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে তার ছোট ভাই সুমনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কোদালের হাতলের মতো একটি লাঠি দিয়ে সুমন নেজামের মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শাকপুরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনছুরুল হক জানান, প্রায় দেড় বছর আগে নেজামের বিয়ে হয়। তিনি বেশিরভাগ সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং নেজামকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শিমুল দত্ত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই নেজামের মৃত্যু হয়েছিল। তার মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল আসামি জামাল উদ্দিন সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

