চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তারের পর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক বলেছেন, সাজ্জাদ, ইমন ও রায়হান বাহিনীসহ সক্রিয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর নেটওয়ার্ক ধাপে ধাপে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে নজরদারিতে রেখেছিল। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ঢাকায় অভিযান চালানো হলেও অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি যশোরে চলে যান। পরে যশোর পুলিশের সহযোগিতায় ঝিকরগাছা থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে পুলিশের ধারণা, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।
অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। বিশেষ করে সাজ্জাদ বাহিনী, ইমন বাহিনী ও রায়হান বাহিনীর কার্যক্রম ভেঙে দিতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দুটি করিডোর বেশি ব্যবহৃত হতো। একটি জঙ্গল সলিমপুর এলাকা এবং অন্যটি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল। এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, অস্ত্র মজুত ও পালিয়ে যাওয়ার নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
মো. নাজিমুল হক বলেন, এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অস্ত্রসহ একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। এছাড়া আলোচিত ধামাই ইলিয়াস এবং সর্বশেষ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ঘটনার পর অভিযান নয়, সন্ত্রাস প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তিসম্পন্ন এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, এপিবিএনের চারটি ক্যাম্প, স্থায়ী চেকপোস্ট ও রোড ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ রাসেল জানান, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

