রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীতে মরিচ ৪০০, চট্টগ্রামে সবজিতে এলাকাভেদে দামের ফারাক

সিনিয়র রিপোর্টার:

টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে দেশের প্রধান দুই শহর ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারেই অস্থিরতা চলছে নিত্যপণ্যের দামে। রাজধানীতে যেখানে কাঁচামরিচের কেজি ঠেকেছে ৪০০ টাকায়, সেখানে বন্দরনগরীতেও সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় সবজির বাজারে দেখা যাচ্ছে এলাকাভেদে বড় ব্যবধান।

- Advertisement -

রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়, যেখানে দেড়-দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

সবজির বাজারও চড়া—লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, করল্লা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও বেড়ে ডজনপ্রতি দাঁড়িয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, এক মাস আগে যা ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের চিত্রও একই রকম অস্থির, তবে এলাকাভেদে দামের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।

বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের ভাষ্যে, সাম্প্রতিক বন্যার পর সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, যার কারণে কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করেছে।

তবে দুই নম্বর গেট এলাকার কর্ণফুলী মার্কেটে দাম তুলনামূলক বেশি—ঢেঁড়শ ১০০ টাকা, পটল ৮০, বরবটি ১২০ ও টমেটো ১২০ টাকা কেজি। এই মার্কেটের বিক্রেতা আবদুল কাদের জানান, বন্যার কারণে সাতকানিয়া থেকে সবজি না আসায় উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি আনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দামে। সিডিএ কাজীর দেউড়ি বাজারে দাম আরও চড়া, যেখানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।

দুই শহরেই মুরগির বাজার প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ঢাকায় ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে, চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে যা ১৯০ টাকা—এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও দুই শহরেই বেড়েছে প্রায় সমান হারে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় দুই শহরেই দামের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ বাড়লে বাজারে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরে আসার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও