রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

আশুলিয়ায় ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপি

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

রাজধানীর উপকণ্ঠে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে ‘শক্তিশালী বোমা’ উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। প্রেশার কুকারের ভেতর তৈরি এই বোমাটি উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে এক ব্যক্তি সেটি ব্যাগের ভেতরে ভরে দোকানের সামনে ফেলে যান।

- Advertisement -

আশুলিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে দোকানের সামনে থেকে বোমাটি উদ্ধার করা হয়, পরে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একজন কর্মকর্তা জানান, একটি প্রেসার কুকারের ভেতর বিয়ারিংয়ের বল ও রাসায়নিক ঢুকিয়ে বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চারাবাগ এলাকার ওই চায়ের দোকানে এক ব্যক্তি ৫০০ টাকার নোট ভাঙাতে আসেন। দোকানদার ভাঙতি না থাকার কথা জানালে তিনি কিছুক্ষণের জন্য ব্যাগটি রেখে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। ঘণ্টাখানেক পর দোকানে আসা লোকজন সন্দেহবশত ব্যাগ খুলে ভেতরে স্কচটেপ মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

ওই কর্মকর্তা জানান, রাত প্রায় ১টার দিকে বোম ডিসপোজাল ইউনিটে খবর আসে, রাত ৩টার দিকে ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে।

এরপর শুক্রবার ভোরে পাশের একটি খালি মাঠে গর্ত খুঁড়ে চারপাশে বালুর বস্তা চাপা দিয়ে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিস্ফোরণের কম্পনে একটি সীমানা দেওয়াল ধসে পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রেসার কুকারে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেদিন ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা, আর বোমাটি রাখা ছিল একটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে।

পুলিশের ধারণা ছিল, সেটি পাতা হয়েছিল উল্টোরথ যাত্রার পথ লক্ষ্য করে। পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী তখন জানিয়েছিলেন, ছাতার ভেতরে থাকা লাইট জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়, এরপর এলাকা ঘিরে ফেলে বোম ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিষ্ক্রিয় করে।

ওই ঘটনার মামলার পর ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক বলেছিলেন, ছাতাটি ফোটালেই বিস্ফোরণ ঘটার মতো করে বোমাটি সংযুক্ত করা ছিল, যাতে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।

তবে পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্টোরথ যাত্রাপথে পাইপ বোমার ঘটনাটিকে ‘কাকতালীয়’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, রথযাত্রা ও উল্টোরথযাত্রা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছিল এবং সেই ডিভাইসটি ঘটনাক্রমে কাকতালীয়ভাবে সেদিন পাওয়া গিয়েছিল, যার সঙ্গে রথযাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি মনে করেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও