রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

৪ হাজার শ্রমিকের কর্মস্থল বন্ধ, এস আলম গ্রুপের বড় ধাক্কা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

নজিরবিহীন ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তীব্র তারল্য সংকটে জর্জরিত দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ১১টি ভারী কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি ও ছাঁটাই করা হয়েছে।

- Advertisement -

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করে। ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং মূলধন সংকটে নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খুলে কাঁচামাল আমদানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা গুটিয়ে নেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো

বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্রমিক ছাঁটাই হওয়া প্রধান ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (নফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

দফায় দফায় ছাঁটাই, অবশেষে পূর্ণ বন্ধ

স্থানীয় সূত্র ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কর্ণফুলীর এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক—প্রায় আড়াই হাজার স্থায়ী ও দেড় হাজার অস্থায়ী—কর্মরত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে অর্থনৈতিক ধাক্কা ও কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ জন করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্ত ছাঁটাই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয় এবং শুক্রবার থেকে সব ধরনের কারখানা কার্যক্রম শতভাগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকদের ক্ষোভ, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নোটিশ বোর্ডে ১ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। হঠাৎ এমন বেকার হয়ে পড়ার খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলাম জানান, উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষ চাইছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন নিজ দায়িত্বে চলে যান।

মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিগত প্রায় দুই বছর ধরে ব্যাংকিং সমস্যা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করে সবকিছু সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে গ্রুপের কোনো পজিশন বা নগদ তারল্য অবশিষ্ট না থাকায় এবং কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বিশাল শিল্পযজ্ঞ চালানো আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও