আজ ৯ আগস্ট, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা সভা, গণসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণের পাশাপাশি তাদের জীবন-জীবিকার বিভিন্ন সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘ ১৯৯৪ সালে ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এ বছরের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘আদিবাসী ধাত্রীদের ভূমিকা’। আদিবাসী নারীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশে ৪৭ কোটিরও বেশি আদিবাসী মানুষ বসবাস করেন। তারা বিশ্বের বিপুলসংখ্যক ভাষা ও সংস্কৃতির ধারক। একই সঙ্গে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে বিভিন্ন দেশে এখনো অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ, ভূমি হারানো ও বৈষম্যসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি।
আদিবাসী নারীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়েও রয়েছে নানা উদ্বেগ। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। পাশাপাশি সহিংসতা ও অন্যান্য ঝুঁকিরও মুখোমুখি হতে হয় তাদের। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও আদিবাসী নারীরা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনায় ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর অধিকার, ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্য দূর করা এবং তাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সংরক্ষণের দাবি তুলে ধরা হচ্ছে।

