গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “সার্বিক বিবেচনায় এটা তো ঐতিহাসিক তো বটেই। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বড়ই বটে।”
সিইসি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দেশ-বিদেশে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে মেয়াদ শেষ হলে এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ তুলনামূলক কম থাকত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, ১৯৯১ সালের পর স্বাধীন বাংলাদেশে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় পর এমন নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের লোকজন তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয় যেখানে ডিপলি ইনভলভ থাকে, উনারাও এই ধরনের কার্যক্রম করে অভ্যস্ত না। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি, কিছুটা শর্টেজ আছে। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই এবারের নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান সিইসি।
তফসিল অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ।
সিইসি জানান, প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ব্যবহৃত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের ফ্লোরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও ভোট গ্রহণে সহযোগিতা করবেন।
সংসদ ভবনের আসন বিন্যাস সংসদীয় আসনের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী না হওয়ায় বিভক্তি নম্বর ধরে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিইসি জানান, ভোটের শুরুতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে এ অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে। ভোট গ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকবে এবং বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সম্প্রচার চালু হবে।
ভোট গ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনি কর্তা হিসেবে তিনি সেখানেই ফল ঘোষণা করবেন। কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার ও অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন—সব তথ্য ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না বলেও জানান সিইসি। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

