বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

চিনির দাম বাড়ল ১০ টাকা, আটা-ময়দাতেও ঊর্ধ্বমুখী বাজার

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। খোলা তেল ও চিনির দাম দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। একই সঙ্গে সবজি, মাছ-মাংস ও ডিমের বাজারও এখনো উচ্চমূল্যে রয়েছে।

- Advertisement -

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও একই আটা ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ডিলাররা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। সামনে প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে বলে ডিলাররা জানিয়েছেন।

এদিকে বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি লিটার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর বিপরীতে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। সরবরাহ বাড়ায় কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দামও কমেছে।

পেঁয়াজের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই দামে রয়েছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

এদিকে ডিমের দামও কমেনি। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে ডিমের দাম এ উচ্চমূল্যের মধ্যেই রয়েছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একাধিক বাজারে দাম বাড়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও