নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের মধ্যে। একদিকে সরবরাহ বাড়ায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমে এসেছে, অন্যদিকে বেগুন-টমেটো ও মাছের চড়া দামে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট ও কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সস্তায় মিলছে যেসব সবজি
বাজারে এখন অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল ও ঝিঙের কেজি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ-ধুন্দল ৮০ টাকা এবং সবচেয়ে সস্তা পেঁপে—কেজিপ্রতি মাত্র ৩০ টাকা। তবে বাজারে আগাম আসা শীতের সবজি শিমের দাম এখনো চড়া, বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে।
ব্যতিক্রম বেগুন-টমেটো
সরবরাহ কম থাকায় ও আড়তেই বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারে বেগুন ও টমেটোর দাম কমছে না। ভালো মানের বেগুন-টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, যা অন্যান্য সবজির তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি।
ক্রেতা-বিক্রেতার কথা
ষোলশহর এলাকার ক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, কয়েক ধরনের সবজির দাম কমায় সংসারের খরচ কিছুটা সামলানো যাচ্ছে, তবে বেগুন-টমেটোর দাম এখনও বেশি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। আরেকজন ক্রেতার ভাষ্য, একটা-দুইটা পণ্যের দাম কমলেই পুরো বাজারের চাপ কমে না—বেগুন-টমেটোও সস্তা হওয়া দরকার।
বহদ্দারহাট বাজারের বিক্রেতা নাদিম বলেন, সরবরাহ বেশি থাকায় পটল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে, জালি ও পেঁপে কম দামে বিক্রি করছেন তিনি, কিন্তু বেগুন-টমেটো আড়ত থেকেই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা মূল্যে।
মাছের বাজারে স্বস্তি নেই
সবজির বাজারে খানিকটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের দামে তার ছোঁয়া নেই। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইন ৬০০-৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের আকার ও জীবিত-মৃত অবস্থার তারতম্যে বাজারভেদে দামে ১০-২০ টাকা কমবেশি হতে পারে।
সবচেয়ে চড়া ইলিশের বাজার। ছোট জাটকা ৯০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ২ হাজার টাকা এবং দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

