ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের অব্যাহত হামলা ঘিরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ থাকলেও বিশ্ববাজারে এর উল্টো প্রভাব দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। মূলত সৌদি আরবের তেল সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাই বাজারে এই স্বস্তি ফিরিয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে এসেছে। একই ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্স বলছে, সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন রুটগুলো পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি একলাফে দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে, যা গত আগস্টে ভয়াবহভাবে কমে প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেলে নেমে গিয়েছিল।
সরবরাহে এই উল্লম্ফন ঘটলেও সৌদি আরবের মাটিতে হুথিদের হামলার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গত শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ছিল।
হামলার পর রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে—তারা জানিয়েছে, হুথিরা রিয়াদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও তাদের ছোড়া সব কটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশে থাকতেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি প্রাক-যুদ্ধ অবস্থায় ফেরেনি। রয়টার্সের তথ্যমতে, গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে এর আগের সপ্তাহান্তেও এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। অথচ সংঘাত শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত।
এত বাধা সত্ত্বেও সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে এখন প্রবল আশাবাদ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে অপরিশোধিত তেল, সাধারণ পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পরিবহন গত ছয় মাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হুথিদের হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি না কাটলেও, তেল সরবরাহ বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র এবং জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার জোরালো প্রত্যাশাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী রাখতে সাহায্য করেছে।

