সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় ৪ জনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।

- Advertisement -

রোববার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল ঢাকার মহানগর আদালতে এ আবেদন করেন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, উসকানিদাতা এবং অর্থের জোগানদাতাদের খুঁজে বের করাসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের কাছে চারজন একত্র হন।

এ সময় আয়াসসহ অন্যরা বক্তব্য দেন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আয়াসের বক্তব্যে পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলকের প্রসঙ্গ এবং রিমির বক্তব্যে ভারতীয় আগ্রাসন ও রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ।

মামলায় গ্রেফতার চারজন হলেন মো. সাকিবুস হাসান (১৯), আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৬)।

রিমান্ড চাওয়ার পাঁচ কারণ

পুলিশের আবেদনে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়ার পেছনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—

১. ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা।

২. পলাতক ব্যক্তিদের পূর্ণ পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করা।

৩. ঘটনার পেছনে উসকানিদাতা ও মদদদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা।

৪. ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা বের করা।

৫. ঘটনার অর্থের জোগানদাতা ও অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করা।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে যান বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন জানিয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

তবে আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও