কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে সহায়ক, নাকি ভবিষ্যতের জন্য হুমকি—এমন যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে মুখর হয়ে উঠেছিল মিরসরাইয়ের আবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞানের বিকাশ নয়, বিনাশের কারণ’ শীর্ষক বিষয়ে আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় উপজেলার আটটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় দল এবং রানার্সআপ হয়েছে বামনসুন্দর ফকির আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয় দল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ আবুরহাট আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওচমানপুর, ইছাখালী ও কাটাছরা ইউনিয়নের আটটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় ইসরাত জাহান হ্যাপি এবং রানার্সআপ দলের শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় প্রিয়া নাথ।
বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। এর অপব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্যও এটি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, বিপক্ষ দলের শিক্ষার্থীরা যুক্তি দেয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞানচর্চা ও দক্ষতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর সাহায্যে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, জটিল বিষয় সহজে বোঝা, গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সঠিক ব্যবহার ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা গেলে এআই মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, অনুষ্ঠানে ওচমানপুর, ইছাখালী ও কাটাছরা ইউনিয়নের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মনজুরুল হক মনজুরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মিরসরাই আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল আমিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পৃথিবী উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এর ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এআইয়ের অপব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে। ২০২৪ সালের আগস্ট আমাদের একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের শিক্ষা দিয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নৈতিক শিক্ষা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্থবহ হয় না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। নৈতিকতাবিহীন শিক্ষা মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিম, ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অলিউল কবির ইকবাল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শওকত আকবর সোহাগ, ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন, মিরসরাই উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মাঈন উদ্দিন মনি, ইছাখালী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এরাদুল হক ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, মিরসরাই উপজেলা ছাত্রদল ক্রীড়া পরিষদের আহ্বায়ক তরিকুর রহমান বাবু ও সদস্যসচিব নাঈম সরকার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঝুলনপোল বেণী মাধব উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবু নোমান ভূঁইয়া, বামনসুন্দর ফকির আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শরফুদ্দীন, আবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা আখতার এবং বামনসুন্দর ফকির আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেশকাত হোসেন চৌধুরী।

