শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

- Advertisement -

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের ফোন পেয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে। তাহসিফের সঙ্গে দীপ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শিগগিরই উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ

তাহসিফ সাউরীর বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দীপের ফোন পেয়ে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ।

রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি বাসায় ফেরার কথা জানান। তবে বার্তাটিতে তাঁকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তাঁর বাবা। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান মেলেনি।

দীপের বক্তব্যে যা জানা গেছে

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি ও তাহসিফ মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি গ্যারেজে যান। পরে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।

এরপর তাঁরা নিজ নিজ মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর তিনি নিজের বাসায় ফিরে গেলেও তাহসিফের বিষয়ে আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন দীপ।

পিবিআই জানিয়েছে, মোটরসাইকেল মেরামত ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার পাশাপাশি তাঁরা অন্য কোথাও গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

এদিকে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় দাবি করেছেন, তাঁর মায়ের মোবাইল ফোনে সর্বশেষ পাঠানো ভয়েস মেসেজটি তাহসিফের বলে মনে হয়নি। বিষয়টি নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনায় ছিলেন শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন তাহসিফ সাউরী—এমন আলোচনা রয়েছে। ওই ভিডিও ধারণের কারণে তাঁর বিমানবাহিনীর চাকরি চলে গিয়েছিল কি না, গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘হতে পারে’ বলে উত্তর দিয়েছিলেন।

তবে এ বিষয়ে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের চাকরি থেকে অবসরের কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজে কাজ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

তাহসিফকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ তুরাগে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও