সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতভর আগুন, ভোরে স্বস্তি—ইপিজেডে ১৭ ঘণ্টার লড়াই শেষ

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিক্যাল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। সাততলা ভবনের ওপরের অংশে থাকা এই দুটি কারখানায় তোয়ালে, ক্যাপ এবং সার্জিক্যাল গাউন তৈরির কাজ চলছিল।

অতি দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতই। ফায়ার সার্ভিস, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অন্তত ২৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে অংশ নেয়। এমনকি রোবটিক ফায়ার ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করা হয় নিয়ন্ত্রণে আনতে। রাতভর বৃষ্টি ফায়ার ফাইটারদের কাজে সহায়ক হয়।

অবশেষে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, “ইপিজেড কর্তৃপক্ষ দ্রুত সবাইকে বের করে নিতে পেরেছে—এটাই বড় অর্জন। তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

তিনি জানান, ভবনটি বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত এবং কোড অনুযায়ী নির্মিত নয়, যার কারণে ফায়ার ফাইটারদের প্রবেশে সমস্যা হয়।

“ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। কেউ যেন ভেতরে না ঢোকে—এই মর্মে ব্যানার টানানোর অনুরোধ করেছি,” বলেন তাজুল ইসলাম।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

এদিকে সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান বলেন, ফায়ার সার্ভিস, সেনা, নৌ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

ইপিজেড কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরেকটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট এখনও ঠান্ডা ছাই ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও