রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তার দাবি, “জনগণ মোটেও আতঙ্কিত না। সবকিছু একদম স্বাভাবিক।”
বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, এখনো কিছু এলাকায় দূর থেকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে এবং এতে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যরা আহত হচ্ছেন। তবুও তিনি বলেন, “এগুলো নিয়ে জনগণ আতঙ্কিত নন। এভরিথিং ইজ ভেরি নরমাল।”
গত রাতে থানার সামনে এক পুলিশ সদস্য ককটেল হামলায় আহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
তিনি দুর্বৃত্তদের উদ্দেশে বলেন, “আমার লোকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করে লাভ নেই। এসব করবেন না। এতে পরিণতিতে আপনারা–আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।”
কমিশনার আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর তিনি নিজ চোখে দেখেছেন—৮০ বছরের বয়োবৃদ্ধরাও লাঠি হাতে মহল্লা পাহারা দিচ্ছিলেন। “যদি আমাদের অফিসারদের মনোবল ভেঙে যায়, তাহলে আবার জনগণকেই লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে নিজেদের ঘর-বাড়ি পাহারা দিতে হবে।”
গণমাধ্যমকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টার প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, “দুর্বৃত্তরা বিশৃঙ্খলা চাইলেও আইন প্রয়োগ করা হবে। ঢাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা আছি।”
এসময় তিনি ব্যাখ্যা দেন কোন পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী পুলিশ ফায়ার ওপেন করতে পারে—নিজের বা অন্যের জানমাল রক্ষায়, আনলফুল অ্যাসেম্বলি ছত্রভঙ্গ করতে এবং যাবজ্জীবন/মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের সময়।
ভোরের কাগজের অনলাইন সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে গ্রেপ্তার ও মুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে কমিশনার সংক্ষেপে বলেন—“পুরোনো রূপে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংঘাতে জড়াতে চাই না। আমরা আপনাদের সেবা দিতে চাই।”
নতুন সাইবার সাপোর্ট সেন্টার বিষয়ে তিনি জানান—এখানে আধুনিক ল্যাব, দক্ষ তদন্তকারী দল, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট টিম থাকবে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরদের অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে এ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন ডিএমপি কমিশনার।

