রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ফের উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাইরে ফের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু–র প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশ হাই কমিশনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

- Advertisement -

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের ডাক দেয় ভিএইচপি ও বজরং দল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নয়াদিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বিক্ষোভের আশঙ্কায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা তিন স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয় এবং মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গত শনিবার রাতে একই কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশের হাই কমিশনারের বাসভবনের সামনে হঠাৎ বিক্ষোভ করে একদল লোক। সে সময় হাই কমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাংলাদেশ হাই কমিশন।

এছাড়া সোমবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সামনেও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যৌথভাবে বিক্ষোভ করে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লি, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার পর কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন।

পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার মাধ্যমে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতা শুধু কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তাই ঝুঁকির মুখে ফেলে না, বরং দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বাংলাদেশ সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন ও কর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভারত সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে ঢাকা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও