রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিটনেসই একমাত্র চ্যালেঞ্জ—বিশ্বকাপ স্বপ্নে নেইমারের কঠোর প্রস্তুতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়াই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ক্লাব সতীর্থরা ছুটিতে থাকলেও নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

- Advertisement -

সম্প্রতি শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে এক বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন নেইমার। বাম হাঁটুর আর্থ্রোস্কোপি অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তিনি কঠোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে শতভাগ ফিটনেসই যে একমাত্র শর্ত—তা স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, ফিটনেস ফিরে পেতে প্রতিদিনই আলাদা করে অনুশীলন করছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন আপডেট দিচ্ছেন নেইমার। সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিতে ফিজিক্যাল ট্রেনার রিকার্ডো রোসার তত্ত্বাবধানে ব্যায়ামে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাকে। অস্ত্রোপচারের সেলাইয়ের জায়গায় ব্যান্ডেজও চোখে পড়ে।

গত ২২ ডিসেম্বর হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করান নেইমার। এরপর থেকে তিনি সান্তোসের সিটি রেই পেলে ট্রেনিং সেন্টার ও নিজের ব্যক্তিগত জিমে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসনের শেষ ধাপে রয়েছেন। লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যেই সান্তোসের স্কোয়াডে ফেরার মতো প্রস্তুত হওয়া।

ধারণা করা হচ্ছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পূর্ণমাত্রার শারীরিক চাপ নিয়ে ট্রানজিশন ট্রেনিং শুরু করবেন নেইমার। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মাঠে ফিরতে পারেন তিনি। ৪ ফেব্রুয়ারি সাও পাওলোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছাড়ার পর সান্তোসে ফেরেন নেইমার। ইনজুরি নিয়েই গত মৌসুমের শেষ দিকে খেলেন তিনি এবং দলকে সেরি ‘এ’ থেকে রেলিগেশন এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই অবদানের কারণেই নেইমারের পুনর্বাসন নিয়ে ধৈর্যশীল অবস্থানে রয়েছে সান্তোস কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। তার আগে মার্চে দুটি প্রীতি ম্যাচের পরই ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

এ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন, “যদি নেইমার শারীরিকভাবে ফিট থাকে এবং স্কোয়াডে থাকার যোগ্য হয়, তাহলে সে বিশ্বকাপে খেলবে। তবে নেইমারকে নিয়েও ভাবতে হবে, আবার নেইমার ছাড়া ব্রাজিলকেও কল্পনা করতে হবে।”

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে নেইমারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—নিজের ফিটনেস প্রমাণ করা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও