রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা চায় যুক্তরাষ্ট্র—কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তাঁরা মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে একটি চিঠি দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।

- Advertisement -

গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে কংগ্রেসম্যানরা বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন ইতিবাচক অগ্রগতির একটি সুযোগ তৈরি করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

কংগ্রেস সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি নাজুক ও অস্থির সময় অতিক্রম করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সদস্যরা। তাঁদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও