রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ কোটি ভোটার, ৪২ হাজার কেন্দ্র—ফল পেতে বাড়তি সময়

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কখন জানা যাবে—এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

- Advertisement -

ইসি আশা করছে, ভোটগ্রহণের পরদিন শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগেই ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তবে সাবেক নির্বাচনি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধারণা, পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

এবার ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। পাশাপাশি রয়েছে পোস্টাল ব্যালট গণনার বিষয়। এসব কারণে গণনায় সময় বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে আসনভিত্তিক একীভূত ফল ঘোষণা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “ফলাফল ঘোষণা ইনশাল্লাহ আমরা যথাশীঘ্র সম্ভব নির্বাচনের পরপরই করতে পারব। ১৩ তারিখ দিনের প্রথম ভাগেই হয়তো ফলাফল ঘোষণা করা যাবে—এমনটাই আশা করছি।”

ইসি সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে গণনা শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “রেজাল্ট ডিলে হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি ব্যালট গণনা হবে। ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে। পরের দিন সকাল ১০টার মধ্যে গণনা শেষ হবে।”

তবে এর আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দুটি ব্যালট ও পোস্টাল ভোটের কারণে গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। একাধিক আসনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও ফল একত্রিত করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সংসদ ও গণভোটের ফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। “গণনা কার্যক্রমও একসাথে শুরু হবে। আলাদা আলাদা ঘোষণা করলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—আমরা তা চাই না,” বলেন তিনি।

১৯৭৭ সালের প্রথম গণভোটে ফল ঘোষণা করতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এবার ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ কোটিতে। দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী মনে করেন, ফল পরদিন বিকালের দিকে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। “সকাল ১০টার মধ্যে অনেক আসনের ফল চলে আসবে, তবে পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণায় বিকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে,” বলেন তিনি।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যা বেড়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণও বেশি। একই বাক্সে ব্যালট পড়লে আলাদা করে গণনা করতেও সময় লাগবে। “প্রতিটি কেন্দ্রে ২-৩ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অতিরিক্ত লাগতে পারে। সব ফল জানতে শুক্রবার দুপুর বা বিকাল হয়ে যেতে পারে,” মন্তব্য করেন তিনি।

এবার ভোট পর্যবেক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন দ্রুত ফল ঘোষণার আশা করলেও, সংশ্লিষ্টদের ধারণা—দ্বৈত ব্যালট ও পোস্টাল ভোটের কারণে পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও