দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই; বরং সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও সরকারের প্রস্তুতি ও মজুত বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ও মজুত করার প্রবণতাই বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করছে।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে চাপ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগাম প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখা হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টনে। এ সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হলেও মজুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা প্রমাণিত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত চাহিদা সে হারে না বাড়লেও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা কৃত্রিম সংকটের কারণ।
জ্বালানি খাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়ে ১৫৩টি মামলা, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আগামী এপ্রিলে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশীয় উৎস থেকেও আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পাওয়া যাবে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারের বর্তমান মজুত দিয়ে অন্তত দুই মাসের চাহিদা পূরণ সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশবাসীকে সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমিয়ে সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করলেই পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব।

