সংসদে আলোচনা না করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২ জুন) সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা এলাকায় নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত এক শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “গত মাসে ৮ থেকে ১২ শতাংশ তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ মাসে আবারও প্রায় পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এটি জনগণের ওপর জুলুমের শামিল। মূল্য বৃদ্ধি করতেই হলে তা সংসদে আলোচনা করে করা উচিত ছিল। কিন্তু জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময় রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
নিহত শিশুর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়লে মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা কমে যায়। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা থাকে না।
ঘটনার ২৮ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি নিহত শিশুর পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দল সরকারের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

