দেশে প্রচলিত ও অনলাইনভিত্তিক সব ধরনের জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল’ উত্থাপন করা হয়েছে। নতুন এই বিলে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিংসহ ২৪ ধরনের অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া অনলাইন বেটিং বা বাজিতে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় আর কার্যকর নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও আইনটি যুগোপযোগী করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা এবং অর্থ পাচারের মতো আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইন যথেষ্ট নয়। এসব কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।
সরকারের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার রোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ কমানো এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি।

