রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সেনাবাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

সেনাবাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ, বীরত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ বা জাতীয় পতাকা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

- Advertisement -

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে নবম পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর অধিনায়কদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

এ বছর জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করা ইউনিটগুলো হলো—প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

পতাকা প্রদান শেষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি ও আধুনিক যুদ্ধকৌশলের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার স্পেস এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে ‘দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প’ প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও