বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

আনোয়ারায় গরুর হাটে বাড়ছে বেচাকেনা, দালালের দৌরাত্ম্যে বিপাকে খামারি ও ক্রেতারা

স্টাফ রিপোর্টার

ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১১টি হাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হাটগুলোতে দেখা গেলেও অধিকাংশই শুধু দর্শনার্থী। হাটে প্রবেশ করা লোকজনের সবাই যে গরু কিনতে এসেছেন, তা নয়। ফলে গরুর হাটে জনসমাগম থাকলেও বেচাকেনা আশানুরূপ নয়।

- Advertisement -

চাতরী চৌমুহনী ও গহিরা দোভাষী হাট সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতার তুলনায় তিনগুণ মানুষ অবাধে চলাফেরা করছেন। এই সুযোগ নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। পশু কেনাবেচায় মধ্যস্বত্বভোগী এসব দালালের কারণে ঠকছেন উভয়পক্ষই। দালালরা মালিকের সঙ্গে পূর্বে রফাদফা করে পশু হাতিয়ে নিচ্ছে, পরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে বাড়তি টাকাটা নিজেরাই পকেটস্থ করছে—এমন অভিযোগ করেছেন অনেকে।

আনোয়ারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৫৬ হাজার ১৮৫টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদা রয়েছে ৫৩ হাজার ৪২৮টির। মোট ৫২০ জন খামারি এ প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত।

এর মধ্যে রয়েছে: ২৪,২১৫টি ষাঁড়, ৭,২০৫টি বলদ, ৩,৮৪৪টি গাভী, ১,৬১২টি মহিষ, ১৬,২৮৫টি ছাগল, ৩,২০০টি ভেড়া।

চাতরী চৌমুহনী হাটে আসা ক্রেতা জাকির হোসেন ও বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম বলেন,“হাটে দালাল ছাড়া গরু কেনাবেচা সম্ভব নয়। তাদের কমিশন দিয়েই লেনদেন করতে হয়।”

বিলপুর গ্রাম থেকে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা নুরুল হক জানান, নিজের ৬টি গরু বিক্রি করতে হাটে এসেছেন। দালালদের হাত থেকে বাঁচতে সঙ্গে নিয়েছেন আরও ৮ জন। তবে দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

অন্যদিকে বাঁশখালী থেকে আসা ক্রেতা নুরুল আমিন সরকার বলেন,“গতবার একাই গরু কোরবানি দিয়েছিলাম, এবার আর্থিক কারণে ৫ জন মিলে একটি গরু কিনছি। তবে দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে আছে।

হাটে ঘুরতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন,“এবার কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই। ঈদের আমেজ নিতে গরুর হাটে এসেছি।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সমরঞ্জন বড়ুয়া জানান, ১১টি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং অনেক ক্রেতাই এখন গ্রামাঞ্চলের খামার ও গৃহস্থ বাড়ি থেকে সরাসরি গরু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন জানান, কোরবানির পশুর হাটতে ঘিরে প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলো নজরদারিতে রেখেছেন। ক্রেতা বিক্রেতা উভয় সুবিধার্থে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পুলিশ টহলে রয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও