ডেঙ্গু এখন আর শুধু শহরের সমস্যা নয়— গ্রাম-গঞ্জেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এডিস মশার প্রকোপ। শহরের মতো গ্রামে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি, আর সেই স্থির পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের আদর্শ জায়গা হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রান্তিক পর্যায়ের ডেঙ্গু আক্রান্তের হার শহরের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। গ্রাম থেকে রোগী শহরে আসলে বা শহর থেকে গ্রামে রোগী গেলে মশার মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশালে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখ লাল হওয়া, পেটে পানি আসা, হঠাৎ প্রলাপ বকা, অবচেতন হয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট বা প্রেসার ডাউন হওয়া— এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, “ডেঙ্গু শুধু শহরের রোগ নয়, এখন গ্রামেও হচ্ছে। যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বেশি যাচ্ছেন। এতে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গ্রামে গেলে তাকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে রোগীর উদ্বেগজনক উপসর্গগুলো দেখা দেবে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত কীটনাশক ছিটানো, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

