সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিকে অজুহাত বানিয়ে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ফের বেড়ে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও বাজার ঘুরে দেখা গেছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে সবজির।

- Advertisement -

তারপরও এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির কেজিপ্রতি দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে বিক্রেতারা। একইসঙ্গে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, মাছ ও মাংসের দামও হু হু করে বেড়েছে। ফলে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সবজির বাজারে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

চট্টগ্রামের বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে, যা আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ঝিঙার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যেখানে আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

অন্যদিকে সিম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, উস্তা ১০০ টাকায়, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, কাঁকরোল ৮০ টাকায়।

এছাড়া কচুমুখী কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা ও মুলা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, জালি কুমড়া ৫০ টাকায় এবং আলু কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

তেল ও ডালের বাজারে অস্থিরতা

খুচরা বাজারে দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ব্র্যান্ডভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৩৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৭৫ থেকে ৩৮০ টাকা। পাম তেলের লিটারপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ টাকা, আগে বিক্রি হতো ১৬৫ টাকায়। মসুর ডালের দামেও ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

মাঝারি দানার মসুর ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, ছোট দানার ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় এবং বড় দানার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে ছোট দানার মসুর ডালের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ টাকা।

মাছ-মাংসে আগুন

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকা কেজি, আগে বিক্রি হতো ২৬০ টাকায়। গরুর মাংস কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায়।

ইলিশের বাজারেও আগুন লেগেছে। মাঝারি আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায় এবং ছোট ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি কেজিপ্রতি ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোগান্তির শেষ নেই

ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, সামান্য বৃষ্টিকে অজুহাত বানিয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। অথচ বাজারে সরবরাহ ঘাটতি নেই। সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের পার্থক্য দিন দিন বাড়ছে। ফলে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে পড়ছেন একেবারে চরম ভোগান্তিতে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও