সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাবারে ভেজাল, স্বাস্থ্য ঝুঁকি— চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁর অমানবিক চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত হোটেল ও রেস্তোরাঁতে অভিযান চালাচ্ছে। এর মধ্যে পাওয়া গেছে নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মানহীন খাবার ও নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ।

- Advertisement -

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত আদায়, নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশন, ভেজাল পণ্য ব্যবহার এবং ওজনে কম দেওয়া বা বেশি মূল্য নেওয়া— এসবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযানগুলিতে এসব নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানা করা হয় এবং সতর্কতা দেওয়া হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরের ৪০টি ও জেলা অফিসের ২৫টি অভিযানে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা আদালতে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য কর্মীদের জন্য দুইটি কর্মশালা, ছয়টি উঠান বৈঠক, একটি স্কুল প্রোগ্রাম এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২৭০টি দেয়ালিকা টাঙানো হয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় গত অর্থবছরে ২০২টি অভিযান চালিয়ে ২৭৬টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া জুলাই ও আগস্ট মাসে ৫৯টি অভিযানে ৭১টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সম্প্রতি নগরের কয়েকটি রেস্তোরাঁতে খাবারে গোলাপজল ও কেওড়া জল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনুমোদিত নয়। নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানিয়েছেন, এই যৌগগুলো ধর্মীয় কাজে ব্যবহার হয়, খাবারে নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা গ্রাহক আকর্ষণের জন্য এগুলো ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে জিইসি মোড়ের কাচ্চি ডাইন রেস্তোরাঁকে ৭০ হাজার টাকা, হান্ডি ও ধাবা নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে আড়াইলাখ টাকা এবং বহদ্দারহাটের বিসমিল্লাহ ওরশ বিরিয়ানি ও মেজ্জানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “ভোক্তারা টাকা দিয়ে খাবার কিনছেন, কিন্তু রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত রাসায়নিক তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে। এটি শুধু খাদ্য আইন লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনও।”

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ মন্তব্য করেছেন, “যদি আমাদের ভুল থাকে, জরিমানা করা হোক। তবে অনেক সময় ভুলভাবে প্রতিবেদিত হয়, এতে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।”

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলেছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং গ্রাহকদের স্বাস্থ্য রক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা কার্যক্রম চলবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও