রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ক্ষুধা ‘বিপর্যয়কর’: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হলেও ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ আকারে রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে, মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইলের বাধার কারণে গাজায় এখনো ‘বিপর্যয়কর খাদ্যসংকট’ চলছে। খবর—আল জাজিরা।

- Advertisement -

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, “গাজায় যা ঢুকছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। যথেষ্ট খাদ্য না থাকায় ক্ষুধার পরিস্থিতিতে কোনো উন্নতি হয়নি।”

আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজায় প্রতিদিন গড়ে ৭৫০ টন খাদ্য প্রবেশ করছে—যেখানে জাতিসংঘের লক্ষ্য ছিল ২ হাজার টন।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানায়, মাত্র দুটি প্রবেশপথ খোলা থাকায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ জনগণ বর্তমানে অনাহারে ভুগছেন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫০০ গর্ভবতী নারী রয়েছেন।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) জানিয়েছে, গাজায় এখন নবজাতকদের ৭০ শতাংশ সময়ের আগেই বা কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে—যেখানে ২০২৩ সালে এ হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ।

ফিলিস্তিনি এনজিও পিএআরসি–এর কর্মকর্তা বাহা জাকউত জানিয়েছেন, “যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহ পার হলেও গাজায় পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। বিস্কুট, চকলেট, কোমল পানীয় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বীজ, জলপাই ও পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী নিষিদ্ধ।”

তিনি জানান, বাজারে এক কেজি টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৫ শেকেল (প্রায় ৪.৫ ডলার), যা আগে ছিল মাত্র এক শেকেল।

বৃহস্পতিবার অক্সফাম, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ ৪১টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এক খোলা চিঠিতে অভিযোগ করেছে, ইসরাইল নির্বিচারে গাজামুখী ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দিচ্ছে।

সংস্থাগুলোর দাবি, চলমান এই পরিস্থিতি গাজার এক প্রজন্মকে দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ডব্লিউএইচও।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও