রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিজয়ের ভোরে স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

ভোরের আলো ফোটার আগেই শীতের কুয়াশা মোড়ানো স্তব্ধতা ভেঙে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে।

- Advertisement -

বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীর প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে ফুল হাতে হাজির হন নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমেই ঘন হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রকর্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাত থেকেই কার্যকর থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল হতেই সাধারণ মানুষ স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করতে শুরু করে। সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে স্মৃতিসৌধমুখী মানুষের স্রোত আরও তীব্র হয়। হাতে জাতীয় পতাকা ও ফুল, পরনে লাল-সবুজের পোশাক—সব মিলিয়ে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উদ্দীপনা ও আবেগে ভরা।

এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিতি মুছে বিয়েবাড়ির আদলে আলপনা আঁকার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে কর্তৃপক্ষ তৎপরতা জোরদার করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হয় ইতিহাসের ভয়াবহ গণহত্যা। দীর্ঘ নয় মাসের প্রতিরোধ যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়েই অর্জিত হয় বাঙালির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

বিজয় দিবসের ভোরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় নীরবতা, বাজানো হয় বিউগলে করুণ সুর।

কূটনৈতিক ও ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধ সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ব্যানার ও পতাকা হাতে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসে নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয় ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন।

বিজয় দিবস ঘিরে স্মৃতিসৌধকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা লাল-সবুজে সাজানো ব্যানার, ফেস্টুন ও মুক্তিযুদ্ধকালীন গানে মুখর হয়ে ওঠে। শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্তম্ভকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস, চোখে-মুখে গর্বের ঝিলিক এবং শ্রদ্ধার আবেশে স্মৃতিসৌধ পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনস্থলে।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি দিন নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। বিজয় দিবস বাঙালি জাতিকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার চিরন্তন বার্তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও