নগরের কোতোয়ালী থানাধীন আসকারদিঘীর পূর্বপাড়া এলাকায় সংঘটিত আলোচিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় একটি ল্যাপটপ, চোরাই স্বর্ণ বিক্রির টাকায় কেনা একটি মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ উদ্ধারসহ চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি-পশ্চিম)।
গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আসকারদিঘীর পূর্বপাড়ার কাঁচাবাজার গলির রিচ নাহার বিল্ডিংয়ের সপ্তম তলায় একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে।
এ সময় অজ্ঞাতনামা চোরেরা বাসা থেকে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও একটি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিম পূরবী বিশ্বাস ১৬ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ডিবি (পশ্চিম) বিভাগের একটি চৌকস দল ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩ থেকে ৪ জনের চলাচল শনাক্ত করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ ডিসেম্বর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে টাইগারপাস এলাকা থেকে মো. জসিম (৪৩) ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪২) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ সময় জসিমের বাসা থেকে চুরি হওয়া একটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারা এলাকা থেকে চোরচক্রের আরেক সদস্য সেতু দাস প্রকাশ সালাহ উদ্দিন (৩২)–কে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে একটি নতুন রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল কেনেন এবং তার কাছে কিছু নগদ টাকা রয়েছে। তার দেখানো মতে একটি মোটরসাইকেল ও ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন মো. ইসমাইল (৩০)–কে নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত টেরিবাজার এলাকার এক দোকানদার পালিয়ে যাওয়ায় স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার ও স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

